Header Ads

টুনি যখন নেইমার

লেখক : আনিসুল হক


এক যে ছিল এক টুনি। সে বসে ছিল একটি বেগুনগাছে। হঠাৎ আকাশ ছেড়ে এল  বৃষ্টি। তার পালকগুলো গেল ভিজে।


তারপর আবার রোদ উঠল আর টুনি তার মাথার পালক মুছল। তার মাথার চুলের মাঝখানটা একদম খাড়া হয়ে গেল।


তখন টুনির কাছের বন্ধু ঠুনি বলল, এই তোকে দেখতে লাগছে একদম  নেইমারের মতো।


টুনি যখন নেইমার
অলংকরণ: মাসুক হেলাল


টুনি বলল, নেইমার !  সে আবার কে ?


ও মা, তুই নেইমার'কে চিনিস না ? নেইমার হলো ব্রাজিলের একজন ফুটবল খেলোয়াড়। সে ব্রাজিলের ছেলে। আর এখন সে খেলে ফ্রান্সের পিএসজি ক্লাব দলের হয়ে।


টুনি বলল, উমম না তো, আমি চিনি না তো।


ঠুনি বলল, তাহলে চিনে রাখ। আচ্ছা আমি তোকে ছবি দেখাব। আমার বাসার আমগাছটার নিচে একটা চায়ের দোকান আছে । সেই দোকান এর গায়ে একটা সুন্দর করে পেপার সাঁটা আছে। আর সেই পেপারেই নেইমার এর ছবি আছে।


তখনই টুনি আর ঠুনি উড়ে গেল সেই আমগাছে। তারপর তারা উড়ে উড়ে দেখতে লাগল নেইমার এর ছবি। দোকান এর টিনের চালে লাগানো আছে। নেইমার এর চুল মধ্যখানে খাড়া!


তারপর সেখান থেকে টুনি আর ঠুনি গেল একটা পাকা দালান বাড়ির পাশে। সেখানের জানালায় কাচ আছে। সেই কাচের সাহায্যে টুনি দেখল তার নিজের চেহারা। তার মাথার ওপর এর পালকগুলো সত্যি সত্যিই নেইমার এর মতো হয়ে আছে।


তখন টুনি বলল, ঠুনি, আমাকে তো দেখতে আসলেই নেইমারের মতোই লাগছে।


ঠুনি বলল, চল আজ বিকেলে আমরা ফুটবল খেলব। আর তুইও আমাদের সাথে খেলবি।


টুনটুনি পাখি'দের দল বিকেল বেলায় মাঠের মধ্যে ফুটবল খেলছে। তারা মূলত ফুটবল খেলছে একটি বরই দিয়ে। তারা তাদের ছোট্ট পা দিয়ে বরইটা'কে লাথি দেয়। আএ বরইটা ফুটবল এর মতো গড়াতে থাকে।


টুনি এর আগে কখনও ফুটবল খেলেনি । তাই ফুটবল খেলার নিয়মও সে জানে না।


গোল কী ? টুনি জানতে চায় ।


তখন তারা বলল, ওই যে দেখো দুটো খুুঁটি পোঁতা আছে, তার মধ্যে দিয়ে এই বলটা'কে নিয়ে যেতে পারলে, তাহলে গোল হবে। আর যে বেশি গোল দেবে, সেই দল জিতে যাবে এই খেলায়। এবং যে দল বেশি গোল খাবে, তারা এই খেলায় যাবে হেরে।


অতপর টুনিও খেলতে নামল মাঠে। সবাই টুনিকে উৎসাহ দিচ্ছে,


নেইমার ! নেইমার!


দেখ তোর কপালে নেইমার!


আরও জোরে জোরে মার নেইমার ।


নেইমার ! নেইমার ।


টুনি সবার উৎসাহ পেয়ে নিজের দলের গোলবার এর ভেতরেই বল পাঠিয়ে দিল। গোল ! গোল !


কিন্তু তার দল এর সব পাখি এসে তাকে ঘিরে ধরল, টুনিকে বলল, আরে বোকা ! তুই তো তোর নিজের গোলে বল পাঠিয়েছিস। আর এটাকে বলে সেম-সাইড বা আত্মঘাতী গোল।


এতক্ষণে টুনি বুঝতে পারল যে, গোল করতে হবে উল্টো দিক এর গোলবারের মধ্য দিয়ে।


তারপর সে তার ঠোঁট দিয়ে বরই'টা ধরে উঁড়ে গিয়ে গোল দিয়ে দিল !


সবাই বলে উঠল, হ্যান্ডবল ! হ্যান্ডবল !


টুনি এবার বলল, আমাদের তো আর হাত নেই। তাহলে হ্যান্ডবল হবে কিভাবে ?


সেই খেলায় রেফারি হয়েছিল চড়ুইপাখি। আর সে বলল, ঠোঁট দিয়ে বল ধরাই পাখি'দের জন্য হ্যান্ডবল।


তবে ওদের খেলা ভালোই জমে উঠেছে। এমন সময় ওখানে এল একটা মানুষ এর বাচ্চা। সে বরইটা তুলে নিয়ে তার জামায় মুছে বরইটি পুট করে মুখে পুরে ফেলল ।


আর সাথে সাথে টুনি চিৎকার করে বলে উঠল, গোল খেয়ে ফেলেছে ! গোল খেয়ে ফেলেছে !


তারপর মানুষ এর বাচ্চাটা বরই এর বিচিটা তার মুখ থেকে বের করে দিল। টুনি এবার আরও জোরে চিৎকার করে বলে উঠল, গোল খেয়ে বিচি ফেলে দিয়েছে !


ঠুনি তার বন্ধু টুনির কথায় খুব লজ্জা পেল আর সে তাকে লেজ দিয়ে বাড়ি দিয়ে বলতে লাগল, এই চুপ চুপ।


তারপর শুরু হলো বিশ্বব্যাপি বিশ্বকাপ ফুটবল।


ঠুনির সঙ্গে টুনিও চললো ডালিম গাছের ডালে। ওখানে বসে পাশের বাড়ির ভেতরে টেলিভিশনটিতে ফুটবল খেলা দেখা যায়।


তারা খেলা দেখছে, গাছের ডালে আরও নানা ধরনের পাখি  বসে আছে। তারাও মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখছে।


খেলা চলছে !


এক পর্যায়ে টুনি ফিসফিসিয়ে বলল ঠুনিকে, এই শুন, ওরা তো শুধু ফুটবলটা'কে লাথি মারছে। কিন্তু ওরা খাবে কখন?


খাবে মানে ?


আরে ওরা গোল খাবে কখন ?


গোল হলেই গোল খাবে ।


গোল গোল...

সবাই চিত্কার করছে !


এবার টুনি বলল, গোল খেয়েছে ?


হ্যাঁ মাত্র খেয়েছে।


কে খেয়েছে রে ?


ওই তো হন্ডুরাস দলটা গোল খেল ।


ও হন্ডুরাস গোল খেয়েছে। আচ্ছা ! ওইযে সাদা দলটাই তো হন্ডুরাস, তাই না ? তো ওদের কে গোলটা খেয়েছে?


ওই যে গোলকিপারটা !


আচ্ছা আচ্ছা ! তাহলে আমি ওকেই ফলো করছি। এখন নিশ্চয় সে গোলের বিচিটা ফেলে দেবে মাঠে।


বিচি ফেলবে মানে ? ঠুনি বিস্মিত কণ্ঠে বলল ।


আরে আমাদের খেলার সময়'তো একটা মানুষ এর বাচ্চা বরইটা'কে খেয়েই ফেলেছিলো। তারপর সে বিচিটা বের করে দিয়েছিলো। তো এরা যদি গোল খাবেই, তবে বিচি বের করে দিল না কেন ? বিচি সহ গোল খেলে কিন্তু পেটে গাছ হবে !

Post a Comment

Previous Post Next Post

Google Ads

Next Part Google Ads